পরকালে কে বেহেশত ও দোযখে যাবে দুনিয়াতে বলা ও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করা নিষেধ

কে জান্নাতে যাব'ে আর কে জাহান্নামে যাব'ে- এ ফায়সালা দেয়ার কোনো ক্ষমতাই মানুষের নেই। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাতেই হবে বেহেশত ও দোযখের ফয়সালা। কারণ মুসলমানের শেষ ফল জান্নাত বা জাহান্নাম আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। তাই দুনিয়ায় আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর উচিত, আল্লাহর অনুগত হয়ে পাপ কাজ ছেড়ে দেয়া এবং অন্যকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখতে নসি'হত করা।

আল্লাহ ক্ষমতা দান করলে তাঁর বিধান বাস্তবায়ন করা এবং তাঁর রহমতের জন্য দোয়া করা। তাঁর রহমত থেকে কেউ কাউকে নিরাশ করলে তাঁর পরিণতি কি হবে- সে সম্পর্কে হাদিসে একটি গু'রুত্বপূর্ণ বর্ণনা এসেছে। যা তুলে ধ’রা হলো-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, বনি ইসরাইল জাতির মধ্যে দুই সহধ'র্মী ছিল- তাদের একজন পাপী আর অন্যজন ইবাদাতগু'জার। ইবাদাতকারী ব্যক্তি পাপী ব্যক্তিকে সর্বদাই পাপ কাজ করতে দেখতো এবং তাকে উপদেশ দিতো যে, তুমি পাপ কাজ ছেড়ে দাও।

একদিন তাকে পাপ কাজ করতে দেখে বলল, তুমি পাপ কাজ ছেড়ে দাও। তখন পাপী ব্যক্তি বলল, আমাকে আমা'র প্রভুর স'ঙ্গে বুঝাপড়া করতে দাও। তোমাকে কি আমা'র পাহারাদার হিসেবে পাঠানো হয়েছে নাকি!

তখন ধার্মিক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আল্লাহ তোমাকে ক্ষ'মা করবে না অথবা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না।

তারা যখন উভয়ে মা'রা গেল। তখন তাদের উভয়কে মহান প্রভুর সামনে হাজির করা হলো। তখন আল্লাহ তাআলা ধার্মিক ব্যক্তিকে বলল, ‘তুমি কি আমা'র সম্পর্কে জানতে? নাকি আমা'র ক্ষমতা তোমা'র হাতে ছিল? তারপর তিনি পাপী ব্যক্তিকে বললেন, যাও আমা'র রহমতের গু'ণে জান্নাতে প্রবেশ কর। আর অ’পর জনের (ঐ ধার্মিকের) উদ্দেশ্যে (ফেরেশতাদেরকে) বলল, তাকে দোযখে নিয়ে যাও। (আবু দাউদ)

হাদিসটি বর্ণনা করার পর হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে সত্তার হাতে আমা'র জীবন তাঁর শপথ করে বলছি, ঐ একটি কথাই ধার্মিক ব্যক্তির দুনিয়া ও আখিরাতকে ধ্বং'স করে দিয়েছে।

পরিশেষে…

কোনো মানুষের মন্দ কাজের জন্য নসি'হত করা যায়, দুনিয়াতে বিচার-ফয়সালা করা যায়; কিন্তু পরকালীনি জিন্দেগিতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি কিরূপ আচরণ করবেন, দুনিয়ার কোনো মানুষ তা বলতে পারে না।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, দুনিয়ার সকল মুসলমানকে কুরআন-হাদিসের পথে চলার জন্য দ্বীনের দাওয়াত দেয়া একান্ত ক'র্তব্য। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহা'ম্মা'দিকে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী হিসেবে কবুল করুন। আমিন।