আসছে মিন্নির জন্য সুখবর! ফাঁ’সির রায় কার্যকর নিয়ে…..

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ছিলেন স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা'মলার স্বাক্ষী। পুলিশি ত'দন্তে হয়ে গেলেন আ’সামি। গ্রে''প্ত ারও করা হয় তাকে। এরপর আবার হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি মেলে তার। এবার মৃ'ত্যুদ'ণ্ডের রায় ঘোষণা হলো তার বিরু'দ্ধে। রায়ে মিন্নিকে এ হ’ত্যা’কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আ'দালত। ফলে আবারও তার স্থান হলো কারা'গারে। তাও আবার কনডেম সেলে। এদিকে মিন্নির এই রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা। মিন্নি কি আসলেই অ’পরাধি? তার কি সত্যিই ফাঁ'’সি হবে? নাকি উচ্চ আ'দালতে তিনি খালাস বা কম সাজা ভোগ করবেন? এ রকম নানান প্রশ্নের মধ্যে উঠে এসেছে অসংখ্য অজানা তথ্য।







এদিকে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ফাঁ'’সির রায় কার্যকর নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে এবং তথ্যে দেখা গেছে- দেশে আজ পর্যন্ত কোনো নারী আ'সামির ফাঁ'’সি কার্যকর হয়নি! ফলে মিন্নির জন্য এটি একটি সুখবর বটে। একাধিক গণমাধ্যম কারা' সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কারা'গারগু'লোতে ফাঁ'’সির দ'ণ্ডপ্রা'প্ত নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে কনডেম সেলের বাসিন্দা। দেশে বহু পুরুষ আ’সামির ফাঁ'’সি কার্যকর হলেও কোনো নারী আ'সামির ফাঁ'’সি কার্যকর হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এবি'ষয়ে গণমাধ্যমকে এক কারা'রক্ষী জানান, তিনি ২৮ বছর ধরে চাকরি করছেন, আজ পর্যন্ত কোনো নারী আ'সামির ফাঁ'’সি হয়েছে, এমন কথা তিনি শোনেননি। ফাঁ'’সির দ'ণ্ডপ্রা'প্ত নারী আ'সামিদের মধ্যে সবাই হ’ত্যার দায়ে দ'ণ্ডিত হয়েছে বলে কারা' সূত্রে জানা গেছে। কলহের জের ধরে নিজ পরিবারের কোনো সদস্যকে হ’ত্যার দায়েই ফাঁ'’সির দ'ণ্ড পেয়েছে এদের বেশির ভাগ। কারা' সূত্র জানায়, প্রতিটি কনডেম সেল কমবেশি ১০ হাত দৈর্ঘ্য ও ছয় হাত প্রস্থের হয়। প্রতি সেলে তিন-চারজন করে ফাঁ'’সির আ'সামিকে রাখা হয়। প্রতি সেলে গ্রিলঘেরা বারান্দা রয়েছে। ওই বারান্দাতেই তাদের হাঁটার সুযোগ মেলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থাকতে হয় সেলের ভেতর ও বারান্দায়। এক কারা' কর্মক'র্তা জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোসল করার জন্য তাদের বের 'হতে দেওয়া হয়। গোসলের আগে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে তাদের।







ফাঁ'’সির দ'ণ্ডপ্রা'প্ত রা মাসে এক দিন সুযোগ পায় তাদের আ'ত্মীয়-স্বজনের স'ঙ্গে দেখা করার। তখন তারা সেল থেকে বেরিয়ে কারা'গারের গেটে স্বজনদের স'ঙ্গে দেখা করে। সূত্র জানায়, ফাঁ'’সির দ'ণ্ডপ্রা'প্ত দের জন্য বরাদ্দ রয়েছে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই। এক হিসাবে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর ফাঁ'’সির আদেশ হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁ'’সি কার্যকর হয়নি। তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন কারা' ভোগ করার পর বেরিয়ে গেছে, কেউ কেউ মা'রা গেছে, কারো কারো আপিলে শাস্তি কমেছে। এদিকে ২০০৭ সালে কাশিমপুরে একমাত্র মহিলা কারা'গার উদ্বোধন করা হয়। দেশের প্রতিটি কারা'গারে ফাঁ'’সির মঞ্চ থাকলেও সেখানে কোনো ফাঁ'’সির মঞ্চ নেই। জানা গেছে, অতীতে কোনো নারী আ'সামির ফাঁ'’সি কার্যকরের রেকর্ড না থাকায় ফাঁ'’সির মঞ্চ বানানো হয়নি। কারা'গারে ২২ বছর ধরে চাকরি করেন এমন এক কর্মক'র্তা জানান, নিয়মানুযায়ী ফাঁ'’সির আ'সামিরা সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষ'মা প্রার্থনা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষ'মা না করলে ফাঁ'’সি থেকে বাঁ'চার কোনো সুযোগ নেই। তবে আজ পর্যন্ত কোনো নারীর আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে গেছে, এমন খবরও তিনি শোনেননি।







উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৪৯ জন নারী ফাঁ'’সির দ'ণ্ড মাথায় নিয়ে বিভিন্ন কারা'গারের কনডেম সেলের বাসিন্দা। ফাঁ'’সির দ'ণ্ডপ্রা'প্ত দের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগু'নার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গতকাল বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা'মলার রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে বরগু'না কারা'গারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই কারা'গারে আর কোনো নারী ফাঁ'’সির আ'সামি না থাকায় তিনি একাই হয়েছেন কনডেম সেলের বাসিন্দা। বরগু'না কারা'গারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ফাঁ'’সির আ'সামি হিসেবে তাকে (মিন্নি) কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কারা'গারের নারী ইউনিটে ১৯ জন ব'ন্দি ছিল। মিন্নিকে নিয়ে ২০ জন হলো। এদিকে রায়ের পর মিন্নির পরিবার ও তার আইনজীবীরা শতভাগ আশাবাদি যে- উচ্চ আ'দালতে মিন্নির সাজা কমবে অথবা খালাস হয়ে বাড়ি ফিরবেন তিনি। তবে যে যাই বলুক সার্বিক পর্যবেক্ষণে মিন্নির জন্য যে একটা সুখবর রয়েছে তা বলাই যায়!